নামাজ পড়া হলনা মালয়েশিয়ায় এক রেমিটেন্স যোদ্ধার!

0
677

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া: ২৪ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষে মাগরিবের নামজ পড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রেমিটেন্স যোদ্ধা মো: আলম মিয়া (৩৯)। রুমের সবাই গোসল সেরে মসজিদে চলে গেছেন। আলম গোসল সেরে মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি। বিধিবাম আলমের মসজিদে যাওয়া হলনা চলেগেলেন পরপারে।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, জহুর বারু জালান মতিয়ারা এমাস তামান মান্ত আস্তিনে চঙ্গি হাট গ্লাস কোম্পানীতে বহু দিন ধরে কাজ করে আসছিলেন। পাশেই রয়েছে বাংলা সূরাও। প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই মসজিদটি গড়েছেন। প্রতি সপ্তাহের রবিবার মসজিদে আসমাউল হোসনা প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। প্রবাসীরা দলে দলে এই প্রোগ্রামে হাজির হন। এই দিন মাগরিবের নামাজ শেষে প্রেগ্রামিিট শুরু হয়। এশার নামাজ পড়ে সবাই রোমে আসছিলেন এসেই দেখলেন আলমের নিথর দেহ। দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জহুর বারু সুলতান এসমাইল হাসপাতালে রাখা হয়েছে তার লাশ। দু একদিনের মধ্যে আলমের লাশ দেশে পাঠানো হবে বলে জানালেন, কমিউনিটি নেতা গোলাম মোস্তাফা।

স্বচ্ছল জীবনের আশায় বিদেশ গমন, অতঃপর লাশ হয়ে দেশে ফেরা। কুমিল্লা তিতাস হোমনার জনাব আলী বেপারির ছেলে মো: আলম মিয়া একটু ভালো থাকার প্রফেশনাল ভিসায় ৩ বছর আগে বছর আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন মালয়েশিয়া। এক বছর যেতেনা যেতে ভিসা পরিবর্তন করে বাংলাদেশি এক দালালের প্ররোচনায় পড়ে রি-হিয়ারিং প্রেগ্রামের আওতায় ফের বৈধ হওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছিলেন। বৈধতা পাবার আশায় প্রহর গুনছিলেন বছর খানেক ধরে। কিন্তু তার কপালে আর বৈধতা জুটলনা। প্রতিনিয়ত আলম এ নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকতেন কবে যে বৈধ ভিসা পাবেন।

স্ত্রী, মা-বাবাকে নিয়ে তার সুখের সংসার। সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু হঠাৎ আকর্ষিক আলমের মৃত্যুতে তাদের সুখের সংসারে নেমে এসেছে দুঃসহ বেদনা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here