বিদ্যুৎ-গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে: ডিএসসিসি

0
640

টুডে বাংলা ২৪ : বিদ্যুত্ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিএসসিসি)।

এতে উৎপাদনমুখী শিল্প, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্টিল রি-রোলিং, টেক্সটাইল খাতে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা দেশের বিকাশমান উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।

এ মুহূর্তে বিদু্যতের দাম না বাড়িয়ে বিদ্যুত্ কেন্দ্রের পরিচালন ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সিস্টেম লস আরও হ্রাস করতে বিদ্যুত্ সঞ্চালন ও বিতরণে বেসরকারি খাতকে অধিক পরিমাণে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি বলেছে, এতে খুচরা পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ৯ টাকা ১৬ পয়সা থেকে ১০ টাকা, বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৯৮ পয়সা, বৃহত্ শিল্প-কারখানার ক্ষেত্রে ৯ টাকা ৫২ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৩২ পয়সা এবং গৃহস্থালি ক্ষেত্রে ৫ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ৬ টাকা ১০ পয়সা হারে বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার দাবির বিপরীতে বর্তমানে শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম উৎপাদন খরচের চেয়ে প্রায় ১৮০ শতাংশ বেশি, যা প্রস্তাবিত মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য অপরিবর্তিত রেখে এবং বিতরণ পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেও পিডিবি’র ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যেতে পারে।

বিদ্যুতের পুনরায় মূল্য বৃদ্ধি করা হলে উৎপাদনমুখী শিল্প, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্টিল রি-রোলিং, টেক্সটাইল খাতে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।

এতে প্রতিযোগী মূল্যে শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাহত হবে। এছাড়া বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পসমূহ, রফতানি সক্ষমতা, শিল্প বহুমুখীকরণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের বিকাশমান এসএমই খাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।

বিদ্যুতের পুনরায় মূল্য বৃদ্ধি স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং সর্বোপরি মূল্যস্ফীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

ডিসিসিআই মনে করে, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার করে সব সরকারি ও বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে একটি জ্বালানি মনিটরিং কমিটি’ গঠনসহ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

যাতে করে ভবিষ্যতে সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে গুণগত মানসম্মত নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করা যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here