ইরাকে চুক্তির অর্ধেক বেতন পাচ্ছেন বাংলাদেশি কর্মীরা

0
1717
ফাইল ছবি

বিশেষ প্রতিনিধি: যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইরাকের পূণর্গঠনে দেশটিতে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। বিশেষ করে অবকাঠামো খাতে দেশটিতে চলছে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড। এই কাজে বাংলাদেশি কর্মীদের বেশ চাহিদা ইরাকে।

২০১১ সালে আগস্টের শেষ দিকে ইরাকে কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তখনকার মন্ত্রী ইজ্ঞিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসন। নিরাপদ জায়গা দেখে ভালো বেতনে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা হয় সেসময়। পরে ২০১৩ সালে ৩১ আগস্ট দেশটির সাথে সমঝোতা স্মারক সই হয়।

চলতি বছরেই ইরাকে গেছে ৪ হাজারের বেশি কর্মী। ২০১৭ সাল মিলিয়ে কর্মী গেছে ৮ হাজার। আর এ পর্যন্ত বৈধ অবৈধ মিলিয়ে ইরাকে বাংলাদেশি কর্মী আছে পায় ৪০ হাজারের মতো।

গেলো কয়েক মাসে ইরাকে যে কর্মীরা গেছেন, তাদের মূল বেতন হওয়ার কথা ৩০০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৫ হাজার টাকা। ইরাকে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করে যে চাহিদাপত্র আনা হচ্ছে, তাতে উল্লেখ থাকে কর্মীদের মূল বেতন ৩০০ ডলার। কিন্তু তাদের দেয়া হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ ডলার।

ইরাকে কাজ করছেন এমন একাধিক কর্মী জানান, তাদের বেতন দেয়া হচ্ছে ১৭০ -১৮০ ডলার। তারা যে কোম্পানীতে কাজ করছেন, সেই কোম্পানীর সাথে অলিখিত সমঝোতা করে এভাবে কর্মীদের ঠকাচ্ছে মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটে থাকা বাংলাদেশের প্রভাবশালী রিক্রুর্টিং এজেন্সির মালিক।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জুলাই মাসেও অভিযুক্ত ঐ প্রতিষ্ঠানের ফাইল অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলো। যাদের কাগজে কলমে ৩০০ ডলার বেতন উল্লেখ রয়েছে।

ইরাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর রেজাউল করিম টুডেবাংলা২৪’র প্রতিবেদককে জানান, তাদের কাছে এমন কোন তথ্য নেই।

কিন্তু অভিযোগ আছে, দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই প্রভাবশালী ঐ এজেন্সি ইরাকের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোন অভিযোগ নেই। কোন নিউজও তারা দেখেননি, তাই ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

তবে ইরাকে ৩০০ ডলার বেতনেও বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাচ্ছে এমন রিক্রুটিং এজেন্সিও আছে বলে জানিয়েছেন কর্মীরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here