বাংলাদেশী কর্মীদের সেরা পছন্দ মালয়েশিয়া , রেমিটেন্সেও সুখবর

0
861

স্টাফ রিপোর্টার: কুষ্টিয়ার বাচ্চু মিয়া। বনানীর একটি মেডিকেল সেন্টারে এসেছেন বিদেশ যাওয়ার জন্য শারীরিক পরীক্ষা করাতে। কথা বলে জানা গেলো মালয়েশিয়া যাবেন তিনি।

বাচ্চু মিয়ার কাছে প্রশ্ন ছিলো, কেন মালয়েশিয়া , অন্য দেশ নয়?
জবাবে বললেন, “এখন মালয়েশিয়া যারা যাচ্ছেন, তারা সবচেয়ে ভালো আছেন। আমাদের এলাকা থেকে কয়েকজন গিয়েছেন খুব ভালো কাজ পেয়েছেন। বেতনও ভালো। ওভারটাইমসহ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠায়।”

এই মেডিকেল সেন্টারেই কথা হয় বগুড়া থেকে আসা জাকির হোসেনের সাথে। বলছিলেন,” আমি এর আগে সাত লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরব গিয়েছিলাম। সেখানে নয় মাস থেকে কোন কাজ করতে পারি নাই। বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে খেয়েছি। কখনো রাস্তার পাশে, কখনো মরুভূমিতে রাত কাটিয়েছি। এরপর দেশে এসে এখন মালয়েশিয়া যাচ্ছি।”

জাকির হোসেন বলছিলেন, তার ছোট ভাই তিন মাস ধরে মালয়েশিয়ায় আছে। সেও নিয়মিত টাকা পাঠাচ্ছে। এই কারনেই মালয়েশিয়ার প্রতি আগ্রহ তার।

মানিকগঞ্জের জাহিদুল ইসলাম বলছিলেন, “এখনতো বৈধভাবে মালয়েশিতেই লোক (কর্মী) যাচ্ছে। অন্য দেশগুলোতে দালালরা নানা কথা বলে নেয়, কিন্তু যাওয়ার পর দেখা যায় কাজ নাই। তাই মালয়েশিয়াই ভালো।”

২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এই পদ্ধতির নাম জি টু জি প্লাস। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে সীমিত রাখা হয় কর্মী প্রেরণকারী রিক্রুটিং এজেন্সীর সংখ্যা। যদিও অন্য সকল এজেন্সিকেও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে সুযোগ দেয়া হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে শুরু থেকেই বলা হয়, গণহারে সব রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠালে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না। দেখা দেয় নানা অনিয়ম । যেমনটি হচ্ছে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। কর্মী পাঠাচ্ছে সবাই, কিন্তু দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউই।

মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে কর্মীদের সুরক্ষা ও কাজের পরিবেশে দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যেকারণে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে যাওয়া কর্মীদের কোন অভিযোগও নেই মালয়েশিয়ায়।

গেলো বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হয়ে চলতি মাস পর্যন্ত ১ লাখ ৭৯ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন। যখন বড় শ্রমবাজার আরব আমিরাত বন্ধ, সৌদি আরব কাজ নেই। সেই সময়ে মালয়েশিয়া বড় সম্ভাবনার শ্রমবাজার হেসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা ।

মহল বিশেষের নানা অপপ্রচার থাকলেও কর্মীদের কাছে মালয়েশিয়াই এখন নিরাপদ ও পছন্দের শ্রমবাজার।

রেমিটেন্সেও সুবাতাস: চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মালয়েশিয়া থেকে রেমিটেন্স এসেছে ৮১৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪ হাজার ৫১১ টাকা। মালয়েশিয়া থেকে বৈধপথে উল্লেখিত পরিমান টাকা আসলেও অবৈধপথে এর দ্বিগুন টাকা দেশে এসেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে টাকা পাঠাতে কর্মী বেশি আগ্রহী বলেও জানা যায় । বৈধপথে টাকা পাঠাতে খরচ ও ঝামেলা রয়েছে মনে করে অবৈধ পথ বেছে নেন অনেক কর্মী।

হুন্ডি ব্যাবসা বন্ধ হলে রেমিট্ন্স বাড়বে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি- বায়রার অর্থ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়াতে কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবকিছুর আগে দেখা হয়। এজন্য মালয়েশিয়ায় যেসকল কর্মী গিয়েছেন তাদের কোন অভিযোগও নেই। শিগগিরই মালয়েশিয়ার বাজারে ছোটখাট যে সমস্যা আছে বায়রা ও দুদেশের সরকার মিলে সমাধান করবে বলেও জানান তিনি। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী যাওয়া স্বাভাবিক আছে বলেও জানান বায়রার এ নেতা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here